Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সলাহঃ উটের স্থানে নামায পড়ার বর্ণনা

 باب الصَّلاَةِ فِي مَوَاضِعِ الإِبِلِ
পরিচ্ছেদ: উটের স্থানে নামায পড়ার বর্ণনা
حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ، قَالَ أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَيَّانَ، قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ يُصَلِّي إِلَى بَعِيرِهِ وَقَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُهُ‏.‏
অনুবাদ: হযরত নাফে (রা.) বলেন, আমি ইবনে ওমরকে উটের পাশে নামায আদায় করতে দেখেছি। তিনি (ইবনে ওমর) বলেন, আমি দেখেছি, আল্লাহর নবী (সা.) এমন করতেন।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য يُصَلِّي إِلَى بَعِيرِهِ -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৬১, ৭২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া মুসলিম ১৯৫, আবু দাউদ ১০০, তিরমিযী ৪৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: এ শিরোনাম দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো জুমহূরের মতকে সমর্থন করা। আল্লামা আইনী (র.) বলেন, জুমহূর আইম্মা তথা ইমাম আবু হানিফা, মালেক ও শাফেয়ী (র.) ও সাহেবাইন প্রমুখের মতে উটের ঘরে/বাথানে নামায জায়েয। তবে শর্ত হলো নামাজের স্থানটি পবিত্র হতে হবে এবং ঐ স্থানটি যেন নাপাক না হয়। 
ইমাম আহমদ (র.) ও জাহেরীদের মতে নামায জায়েয হবে না। সুতরাং শিরোনাম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইমাম আহমদ ও জাহেরীদের মতকে খণ্ডন করা। 
ইমাম বুখারী বলেন, যে সমস্ত হাদীসে উটের ঘরে নামায পড়ার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তার কারণ ভিন্ন। তাহলো অনেক উট দুষ্ট প্রকৃতির হয়ে থাকে। তাই যদি সে লাফালাফি শুরু করে দেয় তাহলে নামায পড়া দুষ্কর হয়ে পড়বে। নতুবা যদি উট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং সওয়ারীর হয় তাহলে তার নিকট নামায পড়াতে কোনো সমস্যা নেই- নামায হয়ে যাবে।  
ব্যাখ্যা:
প্রশ্ন: শিরোনাম তো হলো উটের ঘরে নামায আদায় প্রসঙ্গে, অথচ হাদীস আনা হয়েছে উটের দিকে ফিরে নামায আদায় করা প্রসঙ্গে। সুতরাং শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য নেই।
উত্তর: উটের ঘরে নামাজের নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র উটের নৈকট্যের কারণে। ইমাম বুখারী বলতে চাচ্ছেন যে, যদি উট প্রতিবন্ধক হতো তাহলে তার দিকে মুখ করাও নিষেধ হতো। বাবের হাদীস দ্বারা তিনি বলে দিলেন যে, উটের নিকটবর্তী স্থানে নামাজে কোনো সমস্যা নেই। 
আর যে সমস্ত রেওয়ায়েতে مبارك الابل তথা উটের ঘরে নামায পড়ার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যেমন আবু দাউদ প্রথম খণ্ড باب النهي عن الصلوة في مبارك الابلশিরোনামে হযরত বারা বিন আযেব (রা.) হতে হাদীস রয়েছে, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছ্নে-لا تصلوا في مبارك الابل فانها من الشياطين و سئل عن الصلوة في مرابض الغنم فقال صلوا فيها فانها بركة
এ হাদীসে স্পষ্টতঃ উটের ঘর ও বকরীর ঘরের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। সুতরাং জুমহূরের মতে যদি সব স্থানেই জায়েয হয় তাহলে পার্থক্যের কারণ কি?
উত্তর: আল্লামা আইনী লিখেছেন এ পার্থক্যের কয়েকটি কারণ রয়েছে। ১. একটি কারণ এই যে, উটের মালিক/রাখালরা উটের আড়ালে বসে মল-মূত্র ত্যাগ করে থাকে। ২. দ্বিতীয় কারণ হলো উট হলো দুষ্ট প্রকৃতির প্রাণী, সব সময় তাকে নিয়ে আশঙ্কা থাকে, তাই খুশু-শুযুর সাথে নামায আদায় করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। তাই তার থেকে দূরে থাকাই উত্তম। বুঝা গেল উটের দুষ্টামী ও অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ হলে তার নিকট নামায আদায়ে কোনো সমস্যা নেই। ৩. উটের শরীরে দুর্গন্ধ থাকে। ৪. অথবা নিষেধ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মাকরূহে তানযীহী।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.